বাঘায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
নিজস্ব প্রতিবেদন, বাঘা :
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দেড় শতাধিক গৃহহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা। এসময় তিনি বলেন, আপনারা নিজেদের অসহায় ভাববেন না। আমরা সব সময় আপনাদের পাশে আছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আপনাদের পাশে আছেন। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় তিনি বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাঘার বিস্তীর্ণ পদ্মার চরাঞ্চল ঘুরে বেড়ান এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করে তাঁদের সান্তনা দেন।
শনিবার ত্রাণ বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, ‘বর্তমান সরকার গরিব-দুখি মানুষের সরকার। আমরা সংগ্রাম করে বাঁচবো। যেমনটি বেঁচে ছিলাম ৭১ সালে। আপনারা নিজেদের অসহায় মনে করবেন না। আপনাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক এবং আপনাদের প্রিয় নেতা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে বিষয়টি অবগত করেছি। এই মুহুর্তে যারা ঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন, কেবল তাদের মাঝে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। আগামি দুই একদিনের মধ্যে সকল বন্যার্তদের ত্রাণ সহায়তা দেয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিপদ আসতেই পারে, কিন্তু ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। বর্তমানে দেশের অনেক স্থানেই বন্যা হচ্ছে। আর সেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছে সরকার।
ত্রাণ বিতরণকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম, চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম, একটি বাড়ি-একটি খামার প্রকল্প কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও বাঘা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বাঘার নদী তীরবর্তি পদ্মার চরাঞ্চল পরিদর্শন করে তালিকা করা হয়েছে। সেই অনুযায়ি শনিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০টি পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি, দুধ, চিড়া, দিয়াশলাই ও মোমবাতিসহ একটি করে প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। আগামি দুই একদিনের মধ্যে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে সহায়তা পাওয়ার কথা। সেগুলো পেলে পানিবন্দিদের মাঝে বিতরণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রমত্তা পদ্মা ভয়াবহ রূপ নিয়ে গ্রাস করেছে বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলকে। এর ফলে সেখানে বন্যা ও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের কবলে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। সেই সাথে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের চকরাজাপুর ও লক্ষীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় তিন শতাধিক পরিবার। এছাড়া অসংখ্য আবাদি জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে চকরাজাপুর, চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, দিয়ার কাদিরপুর, লক্ষীনগর, মানিকের চর, কালিদাস খালি, জোতশী, পলাশি ফতেপুর ও টিকটিকিপাড়া।
চরাঞ্চলের বন্যাদুর্গতরা জানান, বর্তমানে তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার জন্য বাহন হিসাবে ব্যবহার করতে হচ্ছে টিনের ডিঙ্গা অথবা ছোট নৌকা।

No comments