দুই যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণের টাকা দাবির অভিযোগে মামলা,গ্রেফতার-৩
আব্দুল হামিদ মিঞা,বাঘা(রাজশাহী)
রাজশাহীর বাঘায় দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার'। স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘এইসব গ্যাং কালচারের কিশোরদের অধিকাংশই মাদকসেবী। তারা ব্যবহার করে নামীদামি মোটরসাইকেল। এই কিশোররা সংঘবদ্ধ হওয়ায় অনেকেই মনে করেন, সত্যি সত্যি এরা গডফাদারের আর্শিবাদপুষ্ট।
বৃহসপতিবার(২৬-৯-১৯) দুই যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় এই ‘গ্যাং কালচারের' বিষয়টি সামনে আসে। আর এই ‘গ্যাং কালচারে' জড়িত ও সহায়তা করার অভিযোগে ৬জনসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলো-উপজেলার খাঁয়েরহাট গ্রামের মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত(২৪),লালপুরের নওপাড়া গ্রামের আলী হুসেন(২২), আশ্রয়দাতা ও সহায়তাকারি কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়,গত বৃহসপতিবার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাদশা আলমের দুই ছেলে-রহিম (৩০) ও রুবেল (২৫) রাজশাহী থেকে ১লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দামের মোটর সাইকেল কিনে নিজ বাড়িতে না গিয়ে ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৩টায় একই উপজেলার কলিগ্রামে (সড়কঘাট)এর তার বোন মর্জিনার বাড়িতে যায়। সেখান থেকে বাড়িতে ফেরার পথে আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টায় কলিগ্রামের সজিব এর মুদিখানা দোকানের সামনে পৌঁছামাত্র, মর্শিদপুর গ্রামের পলাশ (২৩),সবুজ (২৬),বাজুবাঘার সাজেদুল (২৩)সহ অজ্ঞাত আরো ২/৩জন পুলিশ পরিচয়ে পরিচয়পত্র দেখায়ে তাদের কাছে থাকা টাচ মোবাইল ফোনসহ ৫হাজার ৫শ’টাকা নিয়ে নেয়। গ্যালারিতে থাকা ছবি দেখে বলে, মোবাইলে অশ্লিল ছবি আছে। এই ছবি রাখার কারণে তোমাদের জেল হবে ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা হবে। কমপক্ষে ২লক্ষ টাকা না দিলে ছাড়া যাবেনা। এ কথা বলে আটক করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়। তারা ফোনে কাউকে স্যার স্যার স্যার সম্বোধন করে বলে, জি স্যার টাকা না দিলে মাদক দিয়ে মামলা দেওয়া হবে।
সর্বশেষ রাত ৯টায় মোশারফ কাউন্সিলরের বাড়ির নিকটবকর্তী তাদের নিয়ন্ত্রিত টিনসেড নির্মিত ক্লাব ঘরে আটকে রেখে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ও মোটর সাইকেলটি মোশারফ কাউন্সিলরের বাড়িতে রাখে। সেখানে দরকষাকষির এক পর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা দিতে রাজি হয় রহিম ও রুবেল। তাদের ফোন থেকে বোন মর্জিনা বেগমের ফোনে মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত’র বিকাশ নম্বর দিয়ে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে।
পরে তাদের দুই বোন মর্জিনা বেগম ও সাহিদা বেগম বিষয়টি থানায় জানানোর পর পুলিশ মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত’র বিকাশ নম্বরে ফোন করে পরিচয় জানতে চায়। আসল পরিচয় গোপন রেখে রাজশাহীর সাহেব বাজারের বিকাশ এজেন্ট বলে পরিচয় দেয় মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত’। তার তথ্য সংগ্রহ করে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ ও মুক্তিপণের টাকার বিষয়াদিসহ সংশ্লিষ্টদের নাম ঠিকানা জানতে পায় পুলিশ।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে দুই যুবকের বোন কলিগ্রামের মর্জিনা বেগম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছে। রাতে ঘন্টাব্যাপি অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ ওই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপহরণ করে মুক্তিপণের যে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা দলবেঁধে মাদক সেবন করার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় নারীদের উত্ত্যক্ত করাসহ এভাবেই মুক্তিপণের টাকা আদায় করে। বাঘায় কোনো গ্যাং থাকবে না।‘অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংসহ অন্য সব গ্যাং নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে। এরই মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনেছি। ওসি বলেন, বিপথগামিতা থেকে উত্তরণের উপায় হচ্ছে বাবা-মায়ের তীক্ষè নজরদারি। অভিভাবকদের দুর্বল তত্ত্বাবধানের কারণে কিশোররা অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। নিজ নিজ সন্তান সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাবা-মায়ের খবর রাখতে হবে। অস্বাভাবিক কিছু নজরে এলে তাকে (কিশোর) কাউন্সিলিং করতে হবে।
কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন বলেন,এ বিষয়ে আগে কিছুই জানতেননা। পুলিশ যাওয়ার পর তাকে ডাকার পরে জানতে পেরেছেন। এ সময় তার মাধ্যমে মোটরসাইকেলের চাবি পুলিশকে দিয়েছেন। এর আগে দুই যুবকের বাবাসহ তার এলাকার লোকজন এসে বিষয়টি তাদের সাথে সমাঝোতা করে নেয়। টাকা আদান প্রদানের বিষয় নিয়ে সমাঝোতা হয়েছে বলে শুনেছেন।
রাজশাহীর বাঘায় দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে কিশোরদের ‘গ্যাং কালচার'। স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরোনোর আগেই কিশোরদের একটা অংশের বেপরোয়া আচরণ এখন পাড়া মহল্লায় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘এইসব গ্যাং কালচারের কিশোরদের অধিকাংশই মাদকসেবী। তারা ব্যবহার করে নামীদামি মোটরসাইকেল। এই কিশোররা সংঘবদ্ধ হওয়ায় অনেকেই মনে করেন, সত্যি সত্যি এরা গডফাদারের আর্শিবাদপুষ্ট।
বৃহসপতিবার(২৬-৯-১৯) দুই যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় এই ‘গ্যাং কালচারের' বিষয়টি সামনে আসে। আর এই ‘গ্যাং কালচারে' জড়িত ও সহায়তা করার অভিযোগে ৬জনসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলো-উপজেলার খাঁয়েরহাট গ্রামের মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত(২৪),লালপুরের নওপাড়া গ্রামের আলী হুসেন(২২), আশ্রয়দাতা ও সহায়তাকারি কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়,গত বৃহসপতিবার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের বাদশা আলমের দুই ছেলে-রহিম (৩০) ও রুবেল (২৫) রাজশাহী থেকে ১লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দামের মোটর সাইকেল কিনে নিজ বাড়িতে না গিয়ে ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৩টায় একই উপজেলার কলিগ্রামে (সড়কঘাট)এর তার বোন মর্জিনার বাড়িতে যায়। সেখান থেকে বাড়িতে ফেরার পথে আনুমানিক বিকেল সাড়ে ৩টায় কলিগ্রামের সজিব এর মুদিখানা দোকানের সামনে পৌঁছামাত্র, মর্শিদপুর গ্রামের পলাশ (২৩),সবুজ (২৬),বাজুবাঘার সাজেদুল (২৩)সহ অজ্ঞাত আরো ২/৩জন পুলিশ পরিচয়ে পরিচয়পত্র দেখায়ে তাদের কাছে থাকা টাচ মোবাইল ফোনসহ ৫হাজার ৫শ’টাকা নিয়ে নেয়। গ্যালারিতে থাকা ছবি দেখে বলে, মোবাইলে অশ্লিল ছবি আছে। এই ছবি রাখার কারণে তোমাদের জেল হবে ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা হবে। কমপক্ষে ২লক্ষ টাকা না দিলে ছাড়া যাবেনা। এ কথা বলে আটক করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়। তারা ফোনে কাউকে স্যার স্যার স্যার সম্বোধন করে বলে, জি স্যার টাকা না দিলে মাদক দিয়ে মামলা দেওয়া হবে।
সর্বশেষ রাত ৯টায় মোশারফ কাউন্সিলরের বাড়ির নিকটবকর্তী তাদের নিয়ন্ত্রিত টিনসেড নির্মিত ক্লাব ঘরে আটকে রেখে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ও মোটর সাইকেলটি মোশারফ কাউন্সিলরের বাড়িতে রাখে। সেখানে দরকষাকষির এক পর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা দিতে রাজি হয় রহিম ও রুবেল। তাদের ফোন থেকে বোন মর্জিনা বেগমের ফোনে মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত’র বিকাশ নম্বর দিয়ে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে।
পরে তাদের দুই বোন মর্জিনা বেগম ও সাহিদা বেগম বিষয়টি থানায় জানানোর পর পুলিশ মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত’র বিকাশ নম্বরে ফোন করে পরিচয় জানতে চায়। আসল পরিচয় গোপন রেখে রাজশাহীর সাহেব বাজারের বিকাশ এজেন্ট বলে পরিচয় দেয় মিনহাজুল ইসলাম প্রান্ত’। তার তথ্য সংগ্রহ করে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ ও মুক্তিপণের টাকার বিষয়াদিসহ সংশ্লিষ্টদের নাম ঠিকানা জানতে পায় পুলিশ।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে দুই যুবকের বোন কলিগ্রামের মর্জিনা বেগম বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছে। রাতে ঘন্টাব্যাপি অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ ওই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপহরণ করে মুক্তিপণের যে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা দলবেঁধে মাদক সেবন করার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় নারীদের উত্ত্যক্ত করাসহ এভাবেই মুক্তিপণের টাকা আদায় করে। বাঘায় কোনো গ্যাং থাকবে না।‘অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংসহ অন্য সব গ্যাং নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে। এরই মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনেছি। ওসি বলেন, বিপথগামিতা থেকে উত্তরণের উপায় হচ্ছে বাবা-মায়ের তীক্ষè নজরদারি। অভিভাবকদের দুর্বল তত্ত্বাবধানের কারণে কিশোররা অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। নিজ নিজ সন্তান সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। এ বিষয়ে বাবা-মায়ের খবর রাখতে হবে। অস্বাভাবিক কিছু নজরে এলে তাকে (কিশোর) কাউন্সিলিং করতে হবে।
কাউন্সিলর মোশারফ হোসেন বলেন,এ বিষয়ে আগে কিছুই জানতেননা। পুলিশ যাওয়ার পর তাকে ডাকার পরে জানতে পেরেছেন। এ সময় তার মাধ্যমে মোটরসাইকেলের চাবি পুলিশকে দিয়েছেন। এর আগে দুই যুবকের বাবাসহ তার এলাকার লোকজন এসে বিষয়টি তাদের সাথে সমাঝোতা করে নেয়। টাকা আদান প্রদানের বিষয় নিয়ে সমাঝোতা হয়েছে বলে শুনেছেন।

No comments