চারঘাটে একটু বৃষ্টিতে থৈ থৈ পানি, অকেজো কোটি টাকার ড্রেন
গত বর্ষা মৌসুমে চারঘাট উপজেলা সদরের রাস্তাসহ লোকালয়ের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা এক বছর সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পৌরবাসীকে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেয়া হয়েছিল বিভিন্ন প্রকল্প।
এর মধ্যে পানি নিষ্কাশন খাতে ড্রেন বাবদ খরচ হয়েছে কোটি টাকা। অথচ এক পশলা বৃষ্টি হলেই ড্রেন দিয়ে ঠিকমত নিষ্কাশন হচ্ছে না পানি। ফলে পৌর এলাকার রাস্তায় জমে থাকা থৈ থৈ পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে সামান্য বৃষ্টি হলেই পৌর শহরের চিহ্নিত এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক পশলা বৃষ্টির পর চারঘাট-বাঘা মহা সড়কের ট্রাফিক মোড়,মেডিকেল মোড়ের রাস্তাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা গেছে।
পৌর শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলির প্রায় জায়গায় পানি জমার কারণে স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ বয়স্ক লোকদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে এক ঘন্টার বৃষ্টিতে পৌর সদরের রাস্তাঘাটসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর এবং চারঘাট পাইলট স্কুল মাঠে থৈ থৈ পানি চোখে পড়ে।
চারঘাট পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ জানান, গত বছর বর্ষা মৌসুমের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানরা পানি নিস্কাশনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। নামকাওয়াস্তে কোটি-কোটি টাকা ব্যয়ে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রেন নির্মাণ করা হলেও সেসব ড্রেন দিয়ে পানি যাচ্ছে না। ফলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে পৌর এলাকার জনগণ।
অপরদিকে, আগের যে ড্রেনগুলো আছে সেগুলো পরিষ্কার করার ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ মনোযোগী নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন করে ব্যাপক অর্থ খরচ করা হলেও এর সুফল পাচ্ছে না পৌরবাসী। ইতোপূর্বে ড্রেন পরিষ্কারের পেছনে ব্যাপক অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে জানা যায়। এরপরও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে না স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পনা আর ডিজাইনে ত্রুটি রয়েছে।
পৌর শহরের বাসিন্দা ও রাজশাহী জেলা আ'লীগের সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, গত কয়েক বছর বর্ষা মৌসুমে চারঘাট পৌরবাসী জলাবদ্ধতার কাছে সবচেয়ে বেশি জিম্মি হয়ে পড়েছিল। বৃষ্টির ফলে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দোকান, বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। সড়কের মাঝে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্তে বাঁশ গেড়ে সতর্ক চিহ্ন দিতে হয়। ভেবেছিলাম ওই বর্ষার পর যে ড্রেন নির্মাণ হয়েছে, তা দিয়ে পানি বের হলে এবার শুকনো রাস্তা দিয়ে হাটবো। কিন্তু ড্রেন নির্মাণ করার পরও আগের অবস্থায় রয়ে গেছে।
পৌরবাসীর এসব ভোগান্তির বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট পৌরসভার মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল বলেন, মেডিকেল মোড়ের ড্রেনের কাজগুলো আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগের প্রকল্প। তবে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের এসব সমস্যা তিনি সমাধান করবেন বলে জানান।

No comments