মানসিক ভারসাম্যহীন নারী বাসের গ্লাস ভেঙ্গে দিয়েছে বলে বেধড়ক পেটালেন চালক, থানায় অভিযোগ
![]() |
| মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী |
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘায় যাত্রীবাহী বাসের গ্লাস ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিটের অভিযোগ উঠেছে। আহত নারীর নাম জাহেরা বেওয়া (৬০)। সে ধোপাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত সৈয়দ প্রামানিকের স্ত্রী। এ ঘটনায় আহতের ছোট জামাই বাঘা পৌরসভার চক ছাতারি গ্রামের নাজিম উদ্দীন বাদি বাঘা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাঘা তেলপাম্প সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণ পাশের ড্রেনের উপর জাহেরা বেওয়া একটি ছোট লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় "বাঁধন পরিবহন" নামের একটি যাত্রীবাহী বাস পাম্প থেকে তেল নিয়ে তার সামনে দিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল।
এসময় ছুড়ে মারা ইটের আঘাতে বাসের বাম পাশের গ্লাস ভেঙে যায়। বাসের চালক মাহাবুল আলম বাস থেকে নেমে প্রথমে জাহেরা বেওয়াকে কিল-ঘুষি মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে চালক তার হাত থেকে লাঠিটি কেড়ে নিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে তিনি আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে কে বা কারা ওই মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে ইট ছুড়ে মারে। রাস্তা থেকে সেই ইট কুড়িয়ে মারার সময় অসাবধানতাবশত সেটি বাসের গাøসে লেগে ভেঙে যেতে পারে। তবে তার হাতে থাকা লাঠিতে গ্লাস ভাঙা সম্বব নয়।
আহতের পরিবারের দাবি, জাহেরা বেওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও তিনি কখনো কাউকে আঘাত করেননি। স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। রাস্তায় ঘুরে বেড়ালেও বেশিরভাগ সময় মেয়ে জামাইর বাড়িতে থাকেন।
এ বিষয়ে চালক মাহাবুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন আগে জানতাম না। রাগের মাথায় অনিচ্ছাকৃত ভূল হয়েছে।
বাঘা থানার ওসি বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments