শেষ মুহূর্তে প্রতিমা সাজাতে ব্যস্ত কারিগর,ব্যয় বাড়লেও বাড়েনি আয়!
বিশেষ প্রতিনিধি:
একদিন পর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। তাই শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় দিন-রাত এক করে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন কারিগররা।
বুধবার (১৪অক্টোবর) রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার পাকুড়িয়া গ্রামে আনন্দ মালাকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় তিনটি স্থানে চলছে প্রতিমা তৈরির কর্মযজ্ঞ। কোথাও চলছে রঙ-তুলির কাজ, কোথাও চলছে সাজসজ্জা। অনেক প্রতিমার কাদা-মাটির কাজ শেষ হলেও রঙের কাজ এখনো বাকি। তবে পূজা শুরুর আগেই সব কাজ শেষ করতে হবে।
প্রতিমা কারিগর আনন্দ মালাকারের বয়স ৯০ বছর পেরিয়েছে। ছেলে গণেশ মালাকারকে নিয়ে তিন পুরুষ ধরে এই কাজ করছেন তিনি। বয়সের ভারে এখন আর কাদা-মাটির ভারী কাজ করতে পারেন না। তবে প্রতিমার সাজসজ্জার নিখুঁত কাজটি এখনো নিজ হাতেই করেন। তার কারখানায় বর্তমানে ৪ জন কর্মচারী কাজ করছেন।
এদিন প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যস্ত ছিলেন আনন্দ মালাকার নিজেই। রঙ-তুলির কাজ করছিলেন তার মেয়ে কবিতা মালাকার পান্না ও ছেলে গণেশ মালাকার।
কবিতা মালাকার পান্না বলেন, "বাবা এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। দাদাকে একা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। তাই ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি এসেছি সহযোগিতা করতে।"
ছেলে গণেশ মালাকার জানান, এবছর তিনি ৩৩টি প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। আকার ভেদে বড় প্রতিমা ৩০ হাজার, মাঝারি ২০ হাজার ও ছোট প্রতিমা ১৫ হাজার টাকায় তৈরি করছেন।
তিনি বলেন, "এবছর রঙ, বাঁশ, খড়, কাপড়সহ সব জিনিসের দাম বেড়েছে। কিন্তু গত বছরের দামেই প্রতিমা দিতে হচ্ছে। ফলে ব্যয়ের সাথে আয় বাড়েনি।"
কর্মচারী অনন্ত প্রামাণিক জানান, "এক মাস ধরে টানা কাজ করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পাই। এই দিয়েই সংসার চলে।"
পূজা উদযাপন পরিষদ বাঘা শাখার সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে জানান, এবছর বাঘা উপজেলায় ৪৭টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী, শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমী, রোববার (১৮ অক্টোবর) মহাষ্টমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে প্রতিমা বিসর্জন হবে।
হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ বাঘা শাখার সভাপতি সহকারী অধ্যাপক রামগোপাল সাহা বলেন, "পূজা উদযাপনে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা পাচ্ছি।"
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, "নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালনের জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, "সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক দল ও সুধীজনদের সমন্বয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। আশা করছি পূজা উৎসবমুখর পরিবেশেই সম্পন্ন হবে।



No comments