বাঘার আড়ানী ব্রিজের দুই মুখে বাঁশ টানিয়ে অস্থায়ী লকডাউন
বাঘা(রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছায় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তিনটি স্থানে বাঁশ টানিয়ে দিয়ে অস্থায়ীভাবে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক এলাকার লোকজন অন্য এলাকায় যেন না প্রবেশ করতে পারে এ জন্য আড়ানী বড়াল ব্রিজের দুই পাশে বাঁশ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে এইপথ দিয়েই জরুরি প্রয়োজনীয় যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থাও আছে। তবে পরে দুটি স্থানের প্রতিবন্ধকতা তুলে দেয়া হয়।
জানা যায়, নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনগণকে ঘরে থাকতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া দোকানপাট বন্ধে নোটিশ ও সারাদিন মাইকিং করা হলেও অনেক এলাকার মানুষ অগ্রাহ্য করছেন। বাধ্য হয়ে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলপনা ইয়াসমিন উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী, পৌর আ’লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান শাহীদ, আড়ানী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আড়ানী ব্রিজের দুই মুখে বাঁশ টানিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে দুইজন গ্রাম পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। রাস্তায় কিছু ইটও স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
এছাড়া স্বেচ্ছায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে নূরনগর ও বেড়েরবাড়ি এলাকায় জনসমাগম ও যানবাহন চলাচল ঠেকাতে প্রধান রাস্তায় বাঁশ টানিয়ে দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে পরে জনগণের অসুবিধার কারণে খুলে দেয়া হয়েছে।
আড়ানী নূরনগর গ্রামের বজলুর রহমান বলেন, নুরনগর ও বেড়েরবাড়ি গ্রামের প্রবেশ মুখে অপ্রয়োজনে কেউ পাড়ার ভিতর প্রবেশ ও বের হতে না পারে এ জন্য বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে রাস্তা বন্ধ ও ‘লকডাউন’ লিখে দেয়া হয়েছিল। পরে মানুষের অসুবিধার কারণে খুলে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী বলেন, করোনাভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে আড়ানী ব্রিজের দুই মুখে বাঁশ টানিয়ে দিয়ে অস্থায়ীভাবে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও আড়ানী এলাকায় অন্য জেলা ও উপজেলা থেকে কেউ আসছে কী না, সে সম্পর্কেও খোঁজ রাখা হচ্ছে।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, ইতোমধ্যেই পুঠিয়া এলাকায় একটি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তির সন্ধ্যান পাওয়া গেছে। আড়ানী থেকে পুঠিয়ার দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। এই এলাকা থেকে আড়ানীতে লোক প্রবেশ করতে পারে, তাই সতর্ক করার জন্য আগে থেকেই আড়ানী ব্রিজের দুই মুখে গ্রাম পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনীয় যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থাও আছে।

No comments