চারঘাটে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মাথা ফাটলো পরীক্ষার্থীর
নিজস্ব প্রতিবেদক, চারঘাট:
চারঘাট উপজেলা সদরে বেড়েছে কয়েকটি কিশোর গ্যাং গ্রুপের তৎপরতা। উপজেলা সদর ও সরদহ এলাকা ঘিরে ওই গ্রুপগুলো সৃষ্টি হয়েছে।বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবন এবং আধিপত্য বিস্তারই এসব কিশোর গ্যাং গ্রুপের মূল লক্ষ্য।তাদের এসকল লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছিনতাই,ব্ল্যাকমেইল ও হতাহতের মত ঘটনা।
এবার কিশোর গ্যাং এর কার্যক্রমের শিকার হয়েছে সরদহ সরকারী কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী উজ্জল শেখ। হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র হাতে উজ্জলের উপরের হামলা চালায় মাহফুজ ও তার কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্যরা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার এইচএসসি ২য় বর্ষের ইংরেজী ১ম পত্রের নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।এতে অভিযুক্ত মাহফুজ আহম্মেদ ও আহত উজ্জল শেখ দুজনেই অংশগ্রহন করে।পরীক্ষার রুমে মাহফুজ অন্য এক শিক্ষার্থীর সাথে প্রশ্নের উত্তর বলাবলি শুরু করে।ঐ রুমে ডিউটিরত শিক্ষিকা আইরিন আক্তার মাহফুজকে একাধিকবার কথা বলতে নিষেধ করেন।
আরো জানা যায়, মাহফুজ নামের ঐ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য শিক্ষিকা আইরিক আক্তারের সাথে অসদাচরণ করে এবং তর্কাতর্কি শুরু করে।তাতে পরীক্ষার্থী উজ্জল শেখ মাহাফুজের অসদাচরণ এর প্রতিবাদ করে।এতেই উজ্জল শেখের উপরে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে মাহফুজ।পরীক্ষা শেষে বাইরে বের হলেই উজ্জল কে দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকি দেয়এবং টয়লেটে যাবার নাম করে রুমের বাইরে গিয়ে তার কিশোর গ্যাং সদস্যদের ফোন করে কলেজে আসতে বলে।
পরবর্তীতে পরীক্ষা শেষে ১টার দিকে পরীক্ষার রুম থেকে উজ্জল শেখ বের হলেই মাহফুজ আহম্মেদ এর নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ তার উপরে হামলা চালায়।হাতুড়ির আঘাতে উজ্জল শেখের মাথা ফেটে যায় এবং হাত পায়ের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত বিক্ষত হয়।তাৎক্ষণিক কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এসে উজ্জল শেখ কে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল-মামুন তুষার বলেন, মাহফুজ তার কিশোর গ্যাং সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র হাতে কলেজে প্রবেশ করে হামলা করেছে।এটা খুবই দুঃখজনক।তিনি চারঘাট উপজেলার প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠ রাখতে সকল কিশোর গ্যাং সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবী জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সমিত কুমার কুন্ডু বলেন,ইতি মধ্যেই অভিযুক্ত মাহফুজ কে আটক করা হয়েছে।এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরদহ সরকারী মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন,আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে আইনগত ব্যাবস্থা নিবে।আর কলেজে শৃংঙ্খলা নষ্ট করার কারনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অধ্যক্ষ কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

No comments