ইলিশ ধরা শুরু, ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন জেলেদের
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা:
বিশ বছর ধরে পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করছেন চর কালিদাশখালি এলাকার জেলে আব্দুর রহমান । এ বছর নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন পর বুধবার (৩০ অক্টোবর) মধ্যরাত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জাল, নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন তিনি। ফেরেন বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায়। নিষেধাজ্ঞার পর প্রথম দিন নদীতে গিয়ে মাছ পেয়ে বেশ খুশি তিনি।
আব্দুর রহমান বলেন, প্রথম দিন নদীতে ইলিশ ধরতে গিয়ে ১৫ পিস মাছ পেয়েছি। এই মাছ আড়তে বিক্রি না করে খুচরা ক্রেতাদের নিকট বিক্রি করেছেন। তা থেকে পেয়েছেন ৭ হাজার টাকা । এতে তিনিসহ তার সাথের লোকজন অনেক খুশি। তাদের টলারে ১৫ থেকে ২০জন জেলে থাকে।
চৌমাদিয়া এলাকার লোকমান বলেন, এতদিন খুব কষ্টে দিন কেটেছে। কিন্তু প্রথমদিন নদীতে নেমেই ইলিশ পেয়ে অনেক খুশি। তাদের মতো একই কথা জানান , রাওথা গ্রামের বাশার আলী ও আকতার সহ অন্য জেলেরা। জেলেরা জানান, ইলিশ শিকারের প্রথম দিনেই জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। এতে সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তারা। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে।
মাছ ব্যবসায়ী আকতার জানান, নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ইলিশের আমদানি ভালো থাকায় সবাই খুশি। এ অবস্থা চলতে থাকলে কারো সংকট থাকবে না।
সূত্র জানায়, ৯-৩০ অক্টোবর ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ করে মৎস্য বিভাগ। মা ও জাটকা ইলিশ নিধনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের সফলতাকে অনুসরণ প্রাণিসম্পদ সুরক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইলিশ আহরণের নিষেধাজ্ঞার নির্ধারিত সময় ছিল বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাত ১২টা পর্যন্ত। গত বুধবার মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা উঠে ইলিশ শিকার শুরু হয়।
মৎস্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে নদীতে অভিযান চালানো হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম ২০১৯ এ ২২ দিনে বাঘা উপজেলা মৎস্য দপ্তর এর সম্পূন্ন কার্যক্রম অভিযান সংখ্যা ২৭ টি , মোবাইল কোট সংখ্যা ১০ টি, মামলার সংখ্যা ০৮ টি, জরিমানা ২৭ হাজার টাকা, মাছঘাট পরিদর্শন ৮১ বার , আড়ত পরিদর্শন ৭৪ বার , বাজার পরিদর্শন ১৪৪ বার , আটককৃত মা ইলিশ ১২৫ কেজি, আটককৃত জালের দৈর্ঘ্য ১ লক্ষ ১২ হাজার মিটার, বিনষ্টকৃত জালের মূল্য ১৯ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা।

No comments