৭০ বছর বয়সেও ‘অবসর’ মেলেনি চারঘাটের আলমের
আব্দুল মতিন, চারঘাট:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার....। ঝিকড়া বাজার মসজিদ থেকে জুম্মা নামাজের সুমধুর আজানের সুর ভেসে আসছে। বাইরে তখন রাস্তাঘাট প্রায় জনমানবশূন্য।কেউ কেউ জুম্মা নামাজ আদায় করতে যাচ্ছেন মসজিদে। এ সময় দুপুরের প্রখর রোদে কাঁচা কলার ছোট ঢ়াকি মাথায় হেঁটে চলেছেন ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা।
সেই ৭০ বছর বৃদ্ধার নাম আলম উদ্দীন।সুদীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে কাঁচা কলা(তরকারি খাবার কলা) বিক্রি করছেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এ বৃদ্ধ চিৎকার করে কাস্টমার ডাকছেন না। কলার ঢ়াকি মাথায় রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেছেন।
এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে আলম উদ্দীন জানান, বয়স যখন ১৩, তখন থেকে পরিবারের ভার কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে তাকে।
একসময় কাঁচা কলার ব্যবসা ভাল চললেও চার ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীসহ ছয় সদস্যের পরিবারের খরচ চালাতে গিয়ে ব্যবসা আর নেই।ছেলেমেয়ে সবার বিয়ে দিয়েছেন।মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সে স্বামীর সংসারে আর ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা।এখন বৃদ্ধা স্ত্রী ও নিজের আহার জোটাতে ভোর রাত থেকে সন্ধা পর্যন্ত দিক বেদিক ছুটে বেড়ান।
একসময় কাঁচা কলার ব্যবসা ভাল চললেও চার ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীসহ ছয় সদস্যের পরিবারের খরচ চালাতে গিয়ে ব্যবসা আর নেই।ছেলেমেয়ে সবার বিয়ে দিয়েছেন।মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সে স্বামীর সংসারে আর ছেলেরা বিয়ে করে আলাদা।এখন বৃদ্ধা স্ত্রী ও নিজের আহার জোটাতে ভোর রাত থেকে সন্ধা পর্যন্ত দিক বেদিক ছুটে বেড়ান।
তিনি আরো জানান,তার স্ত্রী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হালিম সরকারের মেয়ে। কিন্তু সরকারী কোনো সুযোগ সুবিধা পান না তারা।আশে পাশের বয়সে ছোট,বিত্তশালীরা বয়স্ক ভাতা পেলেও তারা পায় না। প্রতিদিন মাথায় করে কলা বিক্রি করে যা লাভ হয়,তাই দিয়েই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তার।
৭০ বছর বয়সেও কেন রাতদুপুরে ঘুম মাটি করে কলা কিনে বিক্রি করতে আসেন- এমন প্রশ্নের জবাবে আলম উদ্দীন নিচুস্বরে বলেন, ‘না আইলে খাবে কি, ছেলেরা কেউ দেখে না। তা নাহলে এত বেশি বয়সে কি কেউ শখ করে এ কাজ করে?’
আলম উদ্দীনের বাড়ির পাশের লোকজন জানান,যতই কষ্ট হোক আলম কখনও ভিক্ষা করতে যায় না। মাঝে মধ্যেই কলার বোঝা মাথা নিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকেন।লোকজন তুলে বাড়িতে দিয়ে যায়।শারিরিক অবস্থাও অনেক বেশি খারাপ হয়ে গেছে বলে জানান তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মধু বলেন,আমি আলম কে ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি।খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তার।সে কখনই কোনো ভাতার জন্য আমার কাছে আসেনি।তবুও সময়ে অসময়ে আমি সাহায্য করার চেষ্টা করেছি।ভিক্ষুক পূর্নবাসনের আওতায় আলম কে আমরা একটি ঘর দেবার ব্যবস্থা করেছি।তার বউ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হালিম সরকারের মেয়ে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মধু বলেন,আমি আলম কে ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি।খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তার।সে কখনই কোনো ভাতার জন্য আমার কাছে আসেনি।তবুও সময়ে অসময়ে আমি সাহায্য করার চেষ্টা করেছি।ভিক্ষুক পূর্নবাসনের আওতায় আলম কে আমরা একটি ঘর দেবার ব্যবস্থা করেছি।তার বউ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হালিম সরকারের মেয়ে বলে জানান তিনি।

No comments