চারঘাট-বাঘায় তেলের তীব্র সংকট,খুচরা দোকানে লিটারপ্রতি ১৭০ থেকে- ২০০ টাকা, ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা
![]() |
| ফাইল ফটো |
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় পেট্রোল ও অকটেনের ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল না থাকার অভিযোগ, অন্যদিকে খুচরা দোকানগুলোতে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি, সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পুটিমারি, রুস্তমপুর, তেঁতুলিয়া, আড়ানী, ডাকরা, বাকড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই এলাকার বেশিরভাগ পাম্পে তেল সরবরাহ নেই বা সীমিত। এতে করে জরুরি প্রয়োজনে মানুষ পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে ফিরে আসছেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গড়ে তুলেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে।
পুটিমারি এলাকার বাসিন্দা মোঃ রবিউল বলেন,
আমি সকালে দুইটা পাম্প ঘুরে তেল পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে খুচরা দোকান থেকে ১৮০ টাকা লিটার দরে কিনতে হয়েছে। এটা একেবারেই অমানবিক।
রুস্তমপুর এলাকার এক স্কুল শিক্ষক বলেন,
আমরা নিয়মিত সরকারি দামে তেল কিনতে চাই। কিন্তু পাম্পে তেল নেই, অথচ পাশের দোকানেই ২০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এটা স্পষ্টভাবে পরিকল্পিত কারসাজি।
তেঁতুলিয়া এলাকার এক মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আমরা দিনমজুর মানুষ। প্রতিদিন কাজ করতে বাইক লাগে। এইভাবে ২০০ টাকা দিয়ে তেল কিনে চলা অসম্ভব। এখন কাজ করবো নাকি তেল কিনবো?
আড়ানী এলাকার আরেক বাইকার রুবেল হোসেন বলেন,
পাম্পে তেল নাই, কিন্তু খুচরা দোকানে ঠিকই আছে এটা কোনভাবেই স্বাভাবিক না। নিশ্চয়ই বড় কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করা।
ডাকরা এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন,
এই অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাম্প থেকে তেল গোপনে সরিয়ে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রাতারাতি বিপুল পরিমাণ লাভ করছে, আর সাধারণ মানুষ পড়ছে চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এটি শুধু একটি সাধারণ সংকট নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক অপরাধ। তারা মনে করছেন, প্রশাসনের কিছু অংশের নীরবতা বা দুর্বল নজরদারির কারণেই এই সিন্ডিকেট শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
চারঘাট উপজেলার এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন,
এটা কোনো ছোট সমস্যা না। এটা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
প্রশাসনের প্রতি কঠোর আহ্বান, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা চারঘাট ও বাঘা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি), ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবিসমূহ ,পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের প্রকৃত সরবরাহ পরিস্থিতি তদন্ত করতে হবে, খুচরা দোকানে অবৈধভাবে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে, সিন্ডিকেট চক্র শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে হবে, বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে
চারঘাট ও বাঘার সাধারণ মানুষ আজ জিম্মি হয়ে পড়েছে একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কাছে। যেখানে একদিকে পাম্পে তেলের অভাব, অন্যদিকে খুচরা দোকানে চড়া দামে বিক্রি এই দ্বৈত পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তুলছে বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকির উপর। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এই সংকট মোকাবিলা করতে পারে।
জনদুর্ভোগ কমাতে এখনই প্রয়োজন কঠোর ও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ এটাই এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি।

No comments