চারঘাট-বাঘায় সয়াবিন তেলের বাজারে অরাজকতা, সরকারি দামের তোয়াক্কা নেই,নীরব দর্শক প্রশাসন, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
![]() |
| চারঘাট-বাঘায় সয়াবিন তেলের বাজারে অরাজকতা, সরকারি দামের তোয়াক্কা নেই,নীরব দর্শক প্রশাসন, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ |
নিজস্ব প্রতিবেদক,(রাজশাহী):
রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ক্রমেই অস্থিরতা বাড়ছে, আর এরই মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সয়াবিন তেলের দাম নিয়ে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা। সরকারি নির্ধারিত মূল্য থাকলেও স্থানীয় বাজারগুলোতে তা কার্যকর হচ্ছে না,এমন অভিযোগ উঠেছে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। ফলে একদিকে যেমন বাজারে সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের অঘোষিত অরাজকতা, অন্যদিকে নীরবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
সরকারি নির্ধারণ অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ১৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১৭৬ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে চারঘাট, বাঘা আড়ানী, রুস্তমপুর, তেঁতুলিয়া, পুঠিমারীসহ বিভিন্ন বাজারে এই দামের কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে বোতলের গায়ে উল্লেখিত মূল্য উপেক্ষা করে প্রতি লিটার তেল ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এই অতিরিক্ত মূল্য আরও বেশি নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
বাজারে ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তাদের কণ্ঠে শোনা যায় ক্ষোভ, হতাশা ও অসহায়ত্বের মিশ্র প্রতিফলন।
একজন দিনমজুর নাসির উদ্দিন বলেন “আমাদের আয় তো বাড়ে না, কিন্তু প্রতিদিন বাজারের দাম বাড়ছে। এখন তেল কিনতেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে, এটা আমাদের জন্য বড় কষ্ট।
আরো একজন ব্যক্তি হাবিবুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, বোতলের গায়ে এক দাম, দোকানে আরেক দাম,আমরা প্রতিবাদ করলে বলে, সব জায়গাতেই একই অবস্থা। তাহলে আমরা কোথায় যাবো?
অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা নিজেদের দায় এড়িয়ে দাবি করছেন, পাইকারি বাজার থেকেই তারা বেশি দামে তেল সংগ্রহ করছেন। তাদের ভাষায়, আমরাও তো বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনছি, তাই কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, এই যুক্তির আড়ালে কাজ করছে একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো তদারকি নেই। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিও চোখে পড়ে না বললেই চলে। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের ভয়-ভীতি ছাড়াই নির্ধারিত দামের বাইরে পণ্য বিক্রি করে যাচ্ছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যদি নিয়মিত অভিযান চালানো হতো, তাহলে কেউ সাহস পেত না এইভাবে বেশি দামে তেল বিক্রি করতে। এখন তো মনে হচ্ছে—প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, এটি কেবল একটি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনার একটি বড় দুর্বলতার প্রতিফলন। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অরাজকতা দেখা দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে চারঘাট ও বাঘা উপজেলার সাধারণ মানুষ একপ্রকার বাধ্য হয়ে বেশি দামে তেল কিনছেন এবং নীরবে এই ভোগান্তি সহ্য করছেন। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর জোর দাবি বাজারে কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি নিশ্চিতকরণ এবং সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
সবশেষে প্রশ্ন একটাই সরকারি নির্ধারিত মূল্য থাকার পরও কেন বাজারে তা কার্যকর হচ্ছে না, আর সাধারণ মানুষের এই নীরব কষ্টের দায় কে নেবে? এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয় এবং এই অস্থির বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে কিনা।

No comments