Header Ads

  • সর্বশেষ খবর

    ফোনে অর্ডার, রাস্তায় ডেলিভারি,৩০০ টাকায় অবৈধ তেল বাণিজ্য

     

    ফাইল ছবি 

    নিজস্ব প্রতিবেদক:

    রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় অবৈধভাবে বোতলে ভরে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রির ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি এখন আর ছোটখাটো ব্যবসা নয় ,বরং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ফোনে অর্ডার নিলেই নির্দিষ্ট স্থানে রাস্তায় গিয়ে তেল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।


    আড়ানী, রুস্তমপুর, বাউসা, তেঁতুলিয়া, পুঠিমারীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজার এলাকায় প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময় এবং বিশেষ করে সন্ধ্যা ৬টার পর এই কার্যক্রম চোখে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, মোটরসাইকেল বা ভ্যানযোগে বোতলে ভরা তেল বহন করে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।


    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যরা আগে থেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। ক্রেতা যেখানে চায়, সেখানেই তারা তেল পৌঁছে দেয়। এতে করে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জন্য এটি সহজলভ্য হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই অবৈধ ব্যবসা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।


    সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো,প্রতি লিটার অকটেন বা পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে তেল কিনছেন, বিশেষ করে যখন পাম্পে তেলের সংকট তৈরি হয় বা সহজে পাওয়া যায় না।


    রুস্তমপুর এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করা শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। পাম্পে তেল পাই না, বাধ্য হয়ে এদের কাছ থেকে কিনতে হয়। ফোন দিলেই এনে দেয়, কিন্তু দাম নেয় ৩০০ টাকা লিটার। এটা তো এক ধরনের ডাকাতি!

    আড়ানী বাজারের  আরেক ব্যক্তি বলেন, এই ব্যবসা একদিনে গড়ে ওঠেনি। এর পেছনে বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে। যারা বোতলে বিক্রি করে তারা মূলত ছোট কর্মচারী। আসল ব্যবসায়ীদের ধরতে হলে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনতে হবে।


    পুঠিমারি এলাকার এক সচেতন নাগরিক জানান, প্রতিদিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে তেল বিক্রি হচ্ছে, সবাই দেখছে। তাহলে প্রশাসন দেখছে না কেন? নাকি দেখেও না দেখার ভান করছে?

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে এই সিন্ডিকেট খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। এতে করে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে এবং সরকার নির্ধারিত মূল্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।


    এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। স্থানীয়দের জোর দাবি,অবৈধভাবে বোতলে তেল বিক্রি বন্ধ করতে হবে বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে, অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে, এবং এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    তা নাহলে এই অবৈধ বাণিজ্য আরও বিস্তার লাভ করবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে এমনটাই আশঙ্কা করছেন চারঘাট ও বাঘার সচেতন মহল।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728